‘মা’ তোমাদের সাথে আজকেই আমার শেষ দেখা। হয় তো আর কোন দিন দেখা হবে না। আমাকে নিয়ে ভাবনা কর না। জগন্নাথবিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ইমরান নাবিল প্রামানিক রোববার সন্ধ্যায় ‘মা’র সাথে মোবাইলে ভিডিও কলে এ সব কথা বলে মেসে তার কক্ষে ফ্যানের সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
ইমরান নাবিল প্রামানিক গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউয়িনের দক্ষিণ ধুমাইটারী গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম নান্নুর একমাত্র ছেলে। এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে ইমরান নাবিল বড়। সে ২০১৪ সালে সুন্দরগঞ্জ আব্দুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে সুন্দরগঞ্জ ডি ডাব্লিউ সরকারি ডিগ্রী কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করে। এরপর সে জগন্নাথবিশ্ব বিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়। সে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে অনার্স ও মাষ্টার্স পাশ করে বর্তমানে পুনার ঢাকার ধুপখোলা এলাকার একটি মেসে থাকত। সোমবার সকাল ১১টার দিকে মেসে তার কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলান্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মেস সূত্রে জানা গেছে, একই রুমে তারা তিনজন থাকত। অন্য দুইজন বাড়ি চলে গেছে, গত দুই দিন থেকে সে একাই থাকত। সকালে ঘুম থেকে না উঠলে পাশের রুমের সহপাঠিরা জানালা দিয়ে দেখতে পায়, সে ফ্যানের সাথে ঝুলে রয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নাবিলের পিতা মো. শফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, ছোট থেকে সে খুব জিদি ছিল। অনেক চেষ্টা করে তাকে লেখাপড়া করাতে হয়েছে। সে বহুবার বলেছে, আমি এই পৃথিবীতে একদিন থাকব না। সে একাকিত্ব পছন্দ করত এবং মানষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ছিল। তবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে, সে বলত আমার কিছু হয়নি। মাঝে মাঝে ট্যাবলেট খেত। তিনি আরও বলেন, রোববার তার সাথে ফোনালাপ হয়েছে। তখনো সে বলেছে, আমি কিছু একটা করব।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা-বাবা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার নিজ বাড়িতে নামাযে জানাযা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।