ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনায় হতাহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন ইরানি রিয়ালের মান কমা ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ডেকে বসেন। পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর, সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় এটি সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি। গত ২ জানুয়ারি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, ইরান সরকার যদি নিষ্ঠুর পদক্ষেপ নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এই হুমকির পর ইরান কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শত্রুদের কাছে নতিস্বীকার না করার অঙ্গীকার করেছেন।
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার জানায়, নিহতদের মধ্যে ৪ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এছাড়া গত ১০ দিনে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষয় করার অভিযোগে ২ হাজার ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯২টি শহরের ২৮৫টি স্থানে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপে পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করে, যার ফলে ৬০ জন আহত হয়েছেন। হারানা জানিয়েছে, বিক্ষোভের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান ধরে রেখেছেন।