মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালায় সহিংসতার ভয়াবহ ঘটনার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বার্নার্দো আরেভালো। গতকাল রবিবার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশব্যাপী ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। কর্তৃপক্ষ এই দলগুলোর বিরুদ্ধে আট পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা এবং তিনটি কারাগার জিম্মি করার অভিযোগ এনেছে।
কারাগারকেন্দ্রিক দাঙ্গা ও প্রতিশোধমূলক হামলায় রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
একই সঙ্গে তিনটি কারাগারে গ্যাং সদস্যরা ডজনখানেক কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিম্মি করে।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে কিছু নাগরিক অধিকার সাময়িকভাবে সীমিত হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও এটি এখনো দেশটির সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডগুলোর উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে আমরা গ্যাংদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে সরে আসি।
কিন্তু তারা সফল হবে না।’ তিনি জানান, সব জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং হামলায় নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার কারাগারের দাঙ্গা শুরু হয়, যখন কর্তৃপক্ষ গ্যাং নেতাদের বিশেষ সুবিধা সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ছিলেন গুয়াতেমালার কুখ্যাত গ্যাং বারিও ১৮-এর কারাবন্দি নেতা আলদো দুপ্পিয়ে, যিনি ‘এল লোবো’ বা ‘নেকড়ে’ নামে পরিচিত।