ইরানের ড্রোনের ঝাঁক মার্কিন নৌবহরের জন্য ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছেন কানাডার এক সামরিক ড্রোন বিশেষজ্ঞ। ইরানে হামলার লক্ষ্যে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বহর যখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করছে ঠিক তখন এই সতর্কতা এলো।
ড্রোন ডিজাইন ও উৎপাদনকারী কোম্পানি ড্রাগনফ্লাইয়ের প্রধান নির্বাহী (সিইও) এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্যামেরন চেল চলতি সপ্তাহে ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মানববিহীন ড্রোন প্রযুক্তি ওপর ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর মতো যুদ্ধজাহাজের বহরের বিরুদ্ধে ‘স্যাচুরেশন আক্রমণ’ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
তার কথায়, ‘ইরানের ড্রোন সক্ষমতার মূল্য এখন কয়েক মিলিয়ন ডলার। ইরান (যুক্তরাষ্ট্রের) অত্যন্ত উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি কার্যকর হুমকি হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন নৌবহর লক্ষ্য করে একসঙ্গে বহু সংখ্যক বা ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিক্ষেপ করতে সক্ষম।

তার ভাষ্য, ‘যদি অল্প সময়ের মধ্যে শত শত নিক্ষেপ করা হয়, তখন এটা প্রায় কিছু যে, কিছু তার লক্ষ্যে আঘাত হানবেই।’ তার মতে, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত এই ধরণের স্যাচুরেশন আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য তৈরি করা হয়নি। ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন মার্কিন জাহাজগুলোই এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে।’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পর পুরো অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরান সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যেই এ বিশাল সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। দেশটিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সহিংসভাবে দমন এবং হাজার হাজার ইরানি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো।