যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে ইরান ও রাশিয়া ওমান সাগরে যৌথ নৌমহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, একতরফা পদক্ষেপ প্রতিরোধের বার্তা বহন করবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোই ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শহরে দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। ইতোমধ্যে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও হাজারো সেনা মোতায়েন করেছেন। এর মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন প্রায় ৮০টি যুদ্ধবিমানসহ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
গত বছর ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে পূর্ববর্তী আলোচনার উদ্যোগ ভেঙে যায়। ১২ দিনের সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়ে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তারা কেবল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে সীমিত পরিসরে সমঝোতার কথা বলছে। তবে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান।
দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা পরোক্ষ আলোচনা হয় ওমানে ৬ ফেব্রুয়ারি। পরে জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠকে নির্দেশনামূলক নীতিমালা নিয়ে কিছু অগ্রগতির কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেন, ইরান এখনো ওয়াশিংটনের সব ‘রেড লাইন’ স্বীকার করেনি।
উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান ওমান সাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার ঘোষণা দেয়। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা হলে এর ভালো পরিণতি হবে না। এতে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।