রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। শোক, অহংকার আর গৌরবের এই দিনে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান।
শহীদ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তিনি; যেখানে বায়ান্নর ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বাংলা ভাষার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা ফুটে উঠেছে।

জয়া আহসান লেখেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি। এই দিনটা এলে ভোরের আলোটাও যেন একটু নরম হয়, বাতাসে ভেসে আসে অদ্ভুত এক শোক আর গর্বের মিশ্র গন্ধ। মনে হয়, মাটির খুব গভীর থেকে কেউ ফিসফিস করে বলছে, ‘ভাষাকে ভালোবাসো।
এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, ভাষা তো শুধু উচ্চারণ নয়। ভাষা মানে মায়ের আঁচলের গন্ধ, শৈশবের প্রথম ছড়া, প্রথম ভালোবাসার স্বীকারোক্তি। সেই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৫২’র তরুণেরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গুলির শব্দের সামনে তারা ভয়কে ছোট করে দেখেছিল। কারণ তাদের কাছে বাংলা ছিল শ্বাসের মতো; থামানো যায় না, থামানো উচিতও নয়
ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জয়া তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার; এই নামগুলো উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর কেমন হাহাকার জেগে ওঠে। তারা তো শুধু শহীদ নন; তারা আমাদের প্রতিটি ‘মা’ শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাহস।

জয়া লেখেন, আজ আমরা সহজে বাংলায় লিখি, কথা বলি, মনের কথা প্রকাশ করি। অথচ এই সহজতার পেছনে কতটা রক্ত, কতটা অশ্রু, কতটা অসমাপ্ত স্বপ্ন লুকিয়ে আছে… একুশ মানে মাথা নত করে দাঁড়ানো। একুশ মানে ভেতর থেকে শক্ত হয়ে ওঠা। একুশ মানে নিজের ভাষাকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা।

শেষে জয়া লেখেন, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, তোমাদের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না, শুধু হৃদয়ে বহন করে যাব চিরকাল।