আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় সাতটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) শিবির ধ্বংস হয়েছে এবং ৮০ জনেরও বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। গতকাল রবিবার পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে আফগান তালেবানরা এই হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৭ জন বলা হয়েছিল।
রবিবার ভোরের এই হামলা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রবিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘নির্বাচিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালিয়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলে আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর একটি সহযোগী গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

পাকিস্তান দাবি করেছে, ইসলামাবাদ এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজৌর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো ‘আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে’ পরিচালিত হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের কাছে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হামলাগুলো টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, ‘আফগানিস্তানের অভয়ারণ্য থেকে তারা এই হামলাগুলো পরিচালনা করছে।’ তবে কাবুল তা অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে দায়েশের আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি)-এর একটি ঘাঁটিও ছিল।
এই গোষ্ঠীটি চলতি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে, যেখানে ৩২ জন নিহত হন।

এক্সে পোস্ট করে আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ অনেক সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।