নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক অর্থাৎ ভিসি হবেন স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন শিক্ষক। কিন্তুু পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভিসির চেয়ারে বসার জন্য মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাপ দিচ্ছেন পবিপ্রবি’র বিতর্কিত শিক্ষক ও সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির পরিচালক সয়েল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম- যার বিরুদ্ধে গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃওির মারাত্মক অভিযোগ আছে। এছাড়াও সেন্ট্রাল ল্যাবের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে টেন্ডারে দরপএ আহ্বানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নারী সহকর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার গুরুতর

অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানাযায়, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম একই বিভাগের( সয়েল সায়েন্স বিভাগের) সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড.মো: আসাদুল হকের একটি গবেষণার ডাটা চুরি করে নিজের ডাটা হিসেবে উপস্থাপন করে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। এটা নিয়ে প্রফেসর ড. আসাদুল হক পবিপ্রবির ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের কাছে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।ইতিমধ্যে কয়েকটি জাতীয় ও স্হানীয় দৈনিক পএিকায় ড. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তি র খবর প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ বিষয়ে প্রফেসর ড. আসাদুল হকের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, “প্রফেসর ড. সাইফুল অত্যন্ত চালাক ও ধুরান্ধর স্বভাবের লোক। তিনি সহকর্মী হিসেবে আমার অফিস রুমে যাতায়াতের সুযোগে কোন একটা প্রয়োজনে আমার পেনড্রাইভ (ইউএসবি ডিভাইস) নিয়েছিলো, ওখান থেকে আমার গবেষণার ডাটা ফাইল অনৈতিক উপায়ে

নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করলে পরবর্তীতে আমার নজরে আসায় আমি ভিসি স্যারের নিকট অভিযোগ করলে ভিসি স্যার তাকে ডেকে শুধু তিরস্কার করেন। কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এটার কঠিন একাডেমিক শাস্তি হওয়া দরকার ছিলো”।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “আমি অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রফেসর মোহাম্মদ সাইফুলকে ডেকে তিরস্কার করেছি এবং সাইফুল ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য

অপরাধ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছেন”। এধরনের অপরাধের শাস্তি কি তিরস্কার দিয়েই যথেষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি অফিশিয়াল কাজে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

জানাযায়, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের অনৈতিক উপায়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে যাদেরকে কো-অথর রেখেছেন বিষয়টিতে তারাও বিব্রত। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রকাশিত প্রবন্ধে কো-অথর হিসেবে আছেন এমনই একজন হলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক। তিনি জানান, ‘এই ঘটনায় আমার সম্মানহানি হয়েছে। বিষয়টি শেকৃবিতে চাউর হলে কাউকে মুখ দেখাতে পারছিনা। এঘটনায় শেকৃবি কতৃপক্ষ আমাকে সতর্ক করেছে যেহেতু আমার সাথে প্রতিষ্ঠানের মানসম্মান জড়িত। ঐ ঘটনার পর থেকে সাইফুল ভাইকে তার কোন গবেষণা প্রবন্ধে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত না করতে অনুরোধ করেছি’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পবিপ্রবি’র একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, “প্রফেসর ড. সাইফুল সয়েল সায়েন্স বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. আসাদুল হকের গবেষণা ডাটা চুরি করে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এটা সত্যি।তিনি যে কাজটি করেছেন তাতে একজন শিক্ষক হিসেবে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত”। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রফেসর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পবিপ্রবি’র একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, জামায়াতপন্থী সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের সময়ে ২০০৬ সালে জামায়াত ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মানবতা অপরাধের মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত মোঃ কামারুজ্জামানের সুপারিশে

মো: সাইফুল ইসলাম পবিপ্রবি’র সয়েল সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সেন্ট্রাল ল্যাবটরীর যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও গত দেড় বছরে সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরীর প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার টেন্ডারের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

পবিপ্রবি সূত্রে জানাযায়, চব্বিশের ৫ আগষ্ট পরবর্তী তৎকালীন রেজিস্ট্রার বর্তমান প্রোভিসি হেমায়েত জাহানের সাথে সখ্যতা করে এবং বগুড়ার সন্তান সেই প্রভাব দেখিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের ডিঙিয়ে সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরির পরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পবিপ্রবির এক নারী কর্মকর্তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ নারী কর্মকর্তা বিষয়টি প্রফেসর সাইফুল ইসলামের স্ত্রীকে জানালে এতে প্রফেসর সাইফুল ইসলাম ঐ কর্মকর্তার উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হন এবং তার বিভাগীয় ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ড. এবিএম সাইফুলকে দিয়ে ঐ নারী কর্মকর্তাকে শাসিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি সাথে ভিসি, প্রোভিসি এবং রেজিস্ট্রারকে দিয়ে ঐ কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকিয়ে দিয়েছেন।

জানাযায়, আওয়ামী দলীয় সাবেক দুর্নীতিবাজ ভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তিনি নিয়োগ,টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে যান। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের

বাড়ি বগুড়া জেলা সদরে অবস্থিত।বগুড়া জেলা সদরে তার ৪ কাঠা প্লট রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি টাকা। রাজধানীর মীরপুর ১০ নম্বরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০০ স্কোয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৭০০ বর্গফুটের ৮০লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আওয়ামী লীগের গত ১৭ বছরের দু:শাসনের সময়ে পবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত জিয়া পরিষদ ও কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব এর কমিটিতে সিনিয়র শিক্ষকেরা তাকে সদস্য করার জন্য আহ্বান করলে তিনি তখন প্রত্যাখান করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি বড় বিএনপিপন্হী ও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার সন্তান হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি সরকার গঠন করার পরে সুবিধা ভোগ করার টার্গেট নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারনায় তাকে সরব থাকতে দেখা যায়। তিনি ইতোমধ্যে পবিপ্রবিসহ যেকোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবার জন্য সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার সংযুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন যা নিয়ে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।