মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক হাসান মারুফের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (দক্ষিণ)-এর সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে এই জিডিটি করেন। এতে জনৈক সেলিম নিজামীসহ বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে একদল ব্যক্তি ব্যানার প্রদর্শন করে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ওই কর্মসূচির স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রচার করা হয়। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অপপ্রচারের মূল হোতা সেলিম নিজামী নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামক একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ থেকে এই সংগঠনের কোনো বৈধ নিবন্ধনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, সেলিম নিজামী দীর্ঘদিন ধরে ডিএনসি’র ওপর প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। বর্তমানে অধিদপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় এবং অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান চলায় স্বার্থান্বেষী এই মহলটি ক্ষুব্ধ হয়ে মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মাঠে নেমেছে।

জিডিতে উল্লিখিত প্রধান অভিযোগসমূহ হলো পরিকল্পিতভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচার। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও মানসিক চাপ প্রয়োগ। অনিবন্ধিত সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের নামে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা।

রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানহানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ সংবলিত একটি জিডি তারা গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সাইবার ইউনিটের সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অপপ্রচারের শেষ দেখতে চান। জিডির সঙ্গে অপপ্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।