কক্সবাজারে শিক্ষা সফরে এসে রেস্তোরাঁয় বার-বি-কিউ খেয়ে ‘ফুড পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অন্তত ৩০ জন শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী। বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথাসহ নানা জটিলতা নিয়ে তারা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কলাতলীর একটি রেস্তোরাঁয় বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘লার্নিং এক্সিলারেশন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় দু’দিনের শিক্ষা সফরে গত ১৪ মে কক্সবাজারে আসেন রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ১২০ জন প্রশিক্ষণার্থী ও ১০ জন শিক্ষকসহ মোট ১৩০ জনের একটি দল।

শিক্ষকরা জানান, ভ্রমণের ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই কলাতলীর ‘আল গনি রেস্তোরাঁ’য় বার-বি-কিউর জন্য অগ্রিম টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৯টার দিকে তারা সেখানে নান ও কোরাল মাছের বার-বি-কিউ খান। কিন্তু হোটেলে ফেরার পর রাত ১টার পর থেকেই একে একে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকরা বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হতে শুরু করেন।

পরিস্থিতির অবনতি হলে শনিবার (১৬ মে) ভোরে অন্তত ৩০ জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানভি জান্নাত জানান, রাত ৩টার দিকে ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৩০ জন রোগী আসেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ৭ জন নারীসহ ১২ জনকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘ফুড পয়জনিং’ বলে নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তদের আজ সকাল সাড়ে ১২টার ট্রেন থাকায় শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হতেই তারা স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ত্যাগ করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল গনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানের এইচআর (এডমিন) মাসরুর আলম দাবি করেন, তারা সবসময় সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি ও মান বজায় রেখে খাবার পরিবেশন করেন। অনেক সময় খাবারের কারণে নয়, ব্যক্তিগত শারীরিক কারণেও এমন অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

তবে ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে আল গনি রেস্তোরাঁয় জরুরি অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান-আল-মারুফ জানান, রেস্তোরাঁটিতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।