অনেক শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা দূরে ঠেলে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আবারও চোটে পড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। এমনকি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচেই এই তারকার মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

তবুও নেইমারকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে সেলেসাও সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। দীর্ঘ দুই যুগ (২৪ বছর) ধরে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হয়নি ব্রাজিলের। ভক্তদের বিশ্বাস, এবার নেইমারের হাত ধরেই ঘরে আসবে হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা, আর ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন তিনি।

তবে সমর্থকদের এই প্রত্যাশার পিঠে নেইমার মনে করেন, ফুটবল ইতিহাসে তাঁর স্থায়ী জায়গা এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। ব্রাজিলের ফুটবলের জন্যও তিনি রেখেছেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

সম্প্রতি ‘রেডবুল আল্টিমেট সকার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নিতে গিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের লিগাসি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নেইমার। তিনি বলেন, “আমি মনে করি ফুটবলে আমার লিগাসি তৈরি হয়ে গেছে। এখন ফুটবলের কথা উঠলে যে কেউই কোনো না কোনোভাবে আমাকে মনে রাখবে। তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমি ইতিহাস গড়তে পেরেছি, ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে রেখে যেতে পেরেছি। একদিন আমি আমার সন্তানদের, নাতি-নাতনিদের বলতে পারবো, দেশের জন্য আমি কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি।”

ভবিষ্যতে ঠিক কীসের জন্য ফুটবল বিশ্বে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে পিএসজি ও বার্সেলোনার এই সাবেক তারকা বলেন, “আমি এমন একজন মানুষ, যে মাঠের ভেতরে সব সময় নিজের আসল রূপেই চনমনে থেকেছি। সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি বা আল হিলাল—যে ক্লাবের হয়েই খেলি না কেন, প্রতিবার যখনই মাঠে নেমেছি, আমি আমার শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি, বিশেষ করে ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্য।”

চোটের ধাক্কা সামলে নেইমার দ্রুতই মাঠে ফিরবেন এবং ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের নেতৃত্ব দেবেন, এমনটাই এখন কোটি ভক্তের প্রার্থনা।