ঢাকা মহানগর পুলিশের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলে মো. দাউদ হোসেনকে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কূটনৈতিক ও অভিজাত এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পাওয়াকে পুলিশ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিজ্ঞ ও পেশাদার কর্মকর্তা

যশোর জেলার কৃতি সন্তান মো. দাউদ হোসেন কর্মজীবনের শুরু থেকেই দক্ষ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানীর খিলগাঁও ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় তার দায়িত্ব পালন প্রশংসিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, খিলগাঁও থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদক, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে একাধিক অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করতেও তিনি উদ্যোগ নেন।

ক্যান্টনমেন্টে আলোচিত ভূমিকা

ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব পালনকালে তিনি অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে তার ভূমিকা আলোচনায় আসে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

আইনের প্রয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে অবস্থান নেওয়ার কারণে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়ালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। তবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি বিট পুলিশিং জোরদার, স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশ-জনতা সম্পর্ক উন্নয়নেও কাজ করেন।

গুলশানে নতুন চ্যালেঞ্জ

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলশান দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে স্পর্শকাতর। এখানে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, কূটনীতিক ও বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের পাশাপাশি রয়েছে দূতাবাস, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান।

সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মো. দাউদ হোসেন মাঠমুখী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি সরাসরি অভিযান পরিচালনা ও তদন্ত তদারকিতে সক্রিয় থাকেন, যা অধস্তন সদস্যদের কাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গণমাধ্যমের সঙ্গেও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে তিনি সাংবাদিকদের কাছেও পরিচিত মুখ।

প্রত্যাশা ও বিশ্লেষণ

নগরবাসীর প্রত্যাশা, গুলশান থানার নতুন ওসি হিসেবে তিনি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করবেন। বিশেষ করে অভিজাত এলাকার আড়ালে পরিচালিত অপরাধ, প্রতারণা চক্র, মাদক ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে নগর অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই প্রচলিত পুলিশিংয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী দায়িত্বে এই ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা গুলশানেও কাজে লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন সময়ই বলে দেবে, এই চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বে তিনি কতটা সফল হতে পারেন।