অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে একটি অনলাইন পোর্টালে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের শিকার হয়েছেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা এ. কে. এম. আজাদ সরকার। এই ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করতে গেলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানায় প্রতিকার না পেয়ে গত ১০ জুন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘গণউত্তরণ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে ওই কর্মকর্তার পরিবার-সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ একপাক্ষিক ও আপত্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। অথচ সংবাদটি যখন প্রকাশ করা হয়, তখন তিনি সরকারি দায়িত্বে ঢাকার একটি উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গণউত্তরণ’ নামের স্থানীয় পত্রিকাটির ডিক্লারেশন (পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি) আগেই বাতিল করা হয়েছে। এরপরও আইন অমান্য করে একই নাম ও লোগো ব্যবহার করে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

ভুক্তভোগী শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদ সরকার বলেন, আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনো বক্তব্য না নিয়ে বা ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সামাজিকভাবে এবং পেশাগত জায়গায় আমার চরম মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ভুক্তভোগী এই বিসিএস কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট পোর্টালটির বৈধতা, নিবন্ধন, কার্যক্রম ও আয়ের উৎস তদন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, থানায় তার লিখিত অভিযোগ কেন এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হলো না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাইবান্ধা সদর থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিএস কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।