তালাত মাহামুদ
বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী
নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা আতাউর রহমান আতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার ভোরে মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কীর্ত্তীবাসদি গ্রামে। নিহত যুবকের নাম আকাশ (২৩)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কীর্ত্তীবাসদি গ্রামের একটি বসতঘরে আকাশের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয়দের সন্দেহের পর নিহতের বাবা আতাউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়ির গোয়ালঘরের পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় আকাশকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়াল উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার আচরণ ও নির্যাতনে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, পারিবারিক পরিস্থিতি ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যা মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকাসক্তি যে শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, অনেক সময় তা পুরো পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে—এই ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়; অপরাধ বা পারিবারিক সংকট দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াই উচিত।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।