মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ,কক্সবাজার:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে মৌজা ও বাস্তব ভৌগোলিক সীমানাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক সুবিধা ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন বিভক্তির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক, প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি।

স্থানীয়দের প্রস্তাব অনুযায়ী, উনচিপ্রাং খালকে সীমানা হিসেবে নির্ধারণ করে মধ্য হ্নীলা পর্যন্ত এলাকা নিয়ে একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা যেতে পারে। এতে এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে এবং নাগরিকদের সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, একটি ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা বা আয়তন নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার মৌজা সীমানা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, ঐতিহাসিক পরিচিতি ও জনগণের মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। কোনো গ্রাম বা জনপদকে বিচ্ছিন্নভাবে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

তাদের দাবি, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন, মৌজা ও ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করা হোক। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে জনমত গ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, মৌজা ও প্রাকৃতিক সীমানাকে ভিত্তি করে ইউনিয়ন নির্ধারণ করা হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তারা আরও বলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তির সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে কেন্দ্র করে নয়; বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুবিধা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের আহ্বান—জনগণের মতামত, মৌজা সীমানা, ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান সমন্বয় করে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তির সীমানা নির্ধারণ করা হোক। এতে ভবিষ্যতে সীমানা নিয়ে বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার পথ আরও সুগম হবে।