নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি:

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাফ চেয়ে চিরকুট লিখে ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে রিমা আক্তার (১৪) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিমা একই গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা এবং আন্দারুপাড়া ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শৈশবেই বাবাকে হারায় রিমা ও তার দুই বোন। এর পর থেকে তিন মেয়েকে নিয়ে মা জহুরা বেগম বাবা হবিবর রহমানের বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে রিমার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু সে এতে রাজি ছিল না। জানা যায়, রিমা প্রতিবেশী এক যুবককে ভালোবাসতো। কিন্তু পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, মানসিক যন্ত্রণা থেকে সে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যার আগে রিমা নিজ হাতে আবেগঘন একটি চিরকুট লিখে রেখে যায়। তাতে সে লেখে:

“মা তুমি আমারে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তোমার কিছু হইলে তো আমারে কেউ ছাড়বো না। আমি মরলে কারো কি কিছু হয়তো না। মা—তুমি শুধু ভাবলা সম্পত্তির কথা, ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা—তুমি কি এক বারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো? হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারণ তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তোমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম। আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও, তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি তোমার কপাল পোড়া রিমা।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত রিমার মরদেহ ও চিরকুটটি উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।