হাসিনুজ্জামান মিন্টু ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবারে ডিম খাওয়ার পর ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিয়মিত মিড ডে মিলের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভাতসহ অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ডিম দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছু সময় পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে একে একে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের দ্রুত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে ২০ শিক্ষার্থীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. সজীব মিয়া ২০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের খাবারের মান, প্রস্তুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর মাত্র তিন দিন আগে, ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুলসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্যে গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের সঙ্গে দেওয়া দুধ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায়ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরপর এমন ঘটনায় বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খাবারে বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না, পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, আগের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন।

তিনি জানান, আগের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নতুন করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।