মোঃশাহানজিদ উদ্দিন সোহান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।
মাদকের কারবার ঘিরে এবার র্যাবের অভিযান মাগুরায়।অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা, চার বোতল ফেনসিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প। এ সময় মোঃ রাশেদ শেখ (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি ল্যাপটপ, টাকা গণনার মেশিন, প্রেস বুম মাইক্রোফোন এবং খেলনা পিস্তলসদৃশ একটি গ্যাস লাইটারও। তবে র্যাবের দাবি, মাদক ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন অভিযানের সময় পালিয়ে যান।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় স্বপ্নবিলাস ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। র্যাব-৬-এর সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, নগদ টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা নগদ টাকার পরিমাণ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা। পাশাপাশি পাওয়া যায় টাকা গণনার একটি মেশিন ও চারটি ল্যাপটপ। এ ছাড়া একটি প্রেস বুম মাইক্রোফোন এবং খেলনা পিস্তলসদৃশ একটি গ্যাস লাইটারও জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে ফ্ল্যাটটিতে মাদক ও নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তার রাশেদ শেখ (৪১) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা শেখ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। র্যাবের তথ্যমতে, তিনি মাগুরা পৌরসভার কলেজপাড়ার স্বপ্নবিলাস ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ্ত কুমার বিশ্বাস ওরফে সুমন (৩৫) নামে আরেক ব্যক্তিকে এ মাদক ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপড়ি গ্রামের মৃত দয়াল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। র্যাব জানায়, অভিযানের সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
অভিযানের পর উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে তাঁকে ও উদ্ধার করা আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৬-এর সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ ইমামীম মুবীন সরকার সুমন জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত মামলার আসামি, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং হত্যা-ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যে মাগুরার এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও বিপুল নগদ অর্থ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে উদ্ধার করা অর্থের উৎস, জব্দ করা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে মাদক কারবারের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
মোঃশাহানজিদ উদ্দিন সোহান,
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রতিনিধি।
01617592023.