গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ও এসএসসি অনলাইন ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, স্কুলের সকল ছাত্র-ছাত্রীকে কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং সেই কোচিং স্কুল চলাকালীন সময়েই পরিচালনা করা হচ্ছে, যা শিক্ষা বিধিমালার পরিপন্থী। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জিন্নাত আলী, অনার্স পর্যায়ের হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষক বাবুল এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন আবেদন জমাদানের শেষ তারিখ আগামী ১০ জানুয়ারি হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ৪ জানুয়ারিকেই শেষ তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইন ফি বাবদ ২,৫০০ টাকা এবং কোচিং খরচ বাবদ ৫০০ টাকা, মোট ৩,০০০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানান, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে— নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই টাকা জমা দিতে হবে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ফরম পূরণ করে দেবে। টাকা না দিলে ফরম পূরণ করা হবে না বলেও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে অনিয়ম ও বাণিজ্যের স্পষ্ট নমুনা। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি স্কাউটিংসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক এসব অভিযোগে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।