ফজলুল হক চৌধুরী খোকা,ষ্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি দেশে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট নতুন করে চরম রূপ ধারণ করেছে। শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট।
সংকটের মূল কারণসমূহ প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম।
ডলার সংকট ও বকেয়া বিল: বৈদেশিক মুদ্রার টানাটানির কারণে এলএনজি (LNG) এবং কয়লা আমদানির অর্থ পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন হ্রাস: পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসা এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়া। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা: সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের দুর্বলতার কারণে অনেক সময় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
বিভিন্ন খাতে সংকটের প্রভাব শিল্প ও বাণিজ্যে স্থবিরতা: তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সরবরাহের অভাবে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানি আয়ে চাপ সৃষ্টি করছে।
জনজীবনে দুর্ভোগ: রাজধানীসহ দেশের শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে।কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার ব্যঘাত: সেচ মৌসুমে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি না পাওয়ায় ফসল ফলানো নিয়ে কৃষকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
সংকট মোকাবেলায় করণীয় দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান বাড়ানো: দ্রুততম সময়ে স্থলভাগ ও অফশোরে (সমুদ্রে) গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের কাজ জোরদার করা।নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার: সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের মতো টেকসই জ্বালানি উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো।
জ্বালানির অপচয় রোধ ও সাশ্রয়: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বাসা-বাড়িতে অপচয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। আর্থিক ব্যবস্থাপনা জোরদার: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ এবং এলএনজি ও কয়লা আমদানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ রাখা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।