মোঃ ইবনে আলী সরকার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাব সৈয়দপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ১ নং কামারপুকুর ইউনিয়নের নিজামের চৌপতি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ স্বপন ও তার স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে নিজামের চৌপতির বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ স্বপন ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদকের অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল। তাদের এই অপকর্মের প্রতিবাদ করায় এবং সত্য ঘটনা তুলে ধরায় পূর্বে বেশ কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রতিবাদী মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি মাদক চক্রটি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ প্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চালায়।
তবে সব ভয়ভীতি ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এবার একতাবদ্ধ হয় পুরো নিজামের চৌপতিবাসী। ঘটনার দিন স্বপন ও তার স্ত্রী মাদক কারবার চালানো অবস্থায় স্থানীয় জনতা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর এই দৃষ্টান্তমূলক ও সাহসী পদক্ষেপকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সামাজিক সংগঠন ‘সৈয়দপুর সচেতন জনতা’র সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী জজ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রাইয়ান।
এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রাইয়ান বলেন, “মাদক একটি সমাজ ও প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। যারা সমাজকে বিষাক্ত করছে এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকারী সাংবাদিকদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হয়রানি করেছে, তাদের ঠাঁই আইনের খাঁচাতেই হওয়া উচিত। নিজামের চৌপতির সর্বস্তরের জনগণ যে সাহস ও একতা দেখিয়েছেন, তা পুরো সৈয়দপুর উপজেলার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মাদকের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন জেলাজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সচেতন জনতা সর্বদা পাশে থাকবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আটককৃতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকাকে চিরতরে মাদকমুক্ত করতে হবে এবং সাংবাদিকদের হয়রানিকারী এই চক্রের মূল হোতা স্বপন কে আইনের সরবস্ত স্বাস্তী প্রয়োগ করতে হবে।