গালফ অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর শক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরব রোববার (৮ মার্চ) তেহরানকে সতর্ক করে বলেছে, হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হবে।
সূত্র জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলার লক্ষ্য সরাসরি কোনো গালফ দেশ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো। তবে সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতির কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান দুই দিন আগে ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে রিয়াদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতা স্বাগত জানায়, কিন্তু হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বেস ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া নেওয়া হবে।
গত সপ্তাহে ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং সৌদি আরব লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সৌদি দাবি করছে, এই হামলা গালফের শক্তি অবকাঠামোর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব তারা সম্মান করবে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব সামরিক স্থাপনা ও সম্পদকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করবে। সূত্র জানায়, ইরান কিছু গালফ দেশকে সতর্ক করেছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা ও উত্তেজনা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করেছে এবং গালফে শক্তি অবকাঠামোকে বিপদের মুখে ফেলেছে।