সাকিল আল ফারুকী
বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন খাতের আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন আধুনিকায়নের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, ভাঙচুর, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের উত্তরা পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এক নারী উদ্যোক্তা। তিনি আন্তর্জাতিক কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান ProKnoWara Consulting Firm-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চেক রিপাবলিকের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান CYRCID-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছিল।
তার অভিযোগ, দুই ব্যক্তি—এ.কে.এম. মঈনুল ইসলাম (নবীন) ও নাফিসা আফরিন চৌধুরী (শেফা) CYRCID-এর কর্মকর্তাদের কাছে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে CYRCID কর্তৃপক্ষ ই-মেইলের মাধ্যমে পূর্বে স্বাক্ষরিত এমওইউ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক যোগাযোগ না রাখার কথা উল্লেখ করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ProKnoWara Consulting Firm-এর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছেও বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন খাতের চলমান বৈশ্বিক রূপান্তর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভিযুক্তরা ProKnoWara-এর আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতের KnoWerX Education-কে হুমকি দেয়। তারা যদি ProKnoWara-এর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ভারতের হাইকমিশন, ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে অভিযোগ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ইউরোপীয় Digital Product Passport (DPP) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Orobo-এর ওপর সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা ProKnoWara-এর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রচেষ্টা বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে ProKnoWara Consulting Firm আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে Digital Product Passport (DPP), Circular Data Infrastructure এবং Sustainable Supply Chain Transformation—যার লক্ষ্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও উৎপাদন শিল্পকে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কমপ্লায়েন্স কাঠামোর জন্য প্রস্তুত করা।
সংবাদ সম্মেলনে নারী উদ্যোক্তা আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের একটি অফিসিয়াল পোস্টার একটি বাণিজ্যিক স্থানে বৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্তরা সেই পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরে ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছেও পাঠানো হয়, যা প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও অশালীন ও অসম্মানজনক আচরণের শিকার হয়েছেন। তার ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। এমনকি তার সঙ্গে শারীরিকভাবে হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। নারী উদ্যোক্তার দাবি, পুলিশের সামনেই তার ওপর শারীরিক হামলার চেষ্টা করা হয় এবং অভিযুক্তরা কোম্পানির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা অব্যাহত রাখার হুমকি দেয়।এ ঘটনায় ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে হুমকি দেওয়া এবং সাইবার আক্রমণের মতো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বৈশ্বিক রূপান্তর উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, “ভয়ভীতি, অপপ্রচার বা হয়রানির মাধ্যমে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বৈশ্বিক রূপান্তরের জন্য আমাদের কাজ অব্যাহত রাখব।