1. admin@nagorikchitra.com : admin :
August 12, 2026, 1:48 pm
শিরোনামঃ
৩ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন দিলেন চ্যান্সেলর পবিপ্রবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার। মদনে সহকারী শিক্ষিকা লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষকের হাতে,থানায় অভিযোগ শিবির ও জামায়াত নেতার কবর জিয়ারতে কাঁদলেন ডা. শফিকুর রহমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ গ্রেপ্তার ৩ ‎রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে ‎বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত ‎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শেখ কামরুল হাসান সাহার অভিনন্দন যুবসমাজকে রক্ষায় টঙ্গীতে মাদকবিরোধী সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৭ হাজার ৩ কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন, সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নয়াপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে দখল–অব্যবহারের অভিযোগ: বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, December 4, 2025,

মোঃসুলতান মাহমুদ,গাজীপির প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে নির্মিত ঘরগুলোর বড় একটি অংশই দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা গেছে—অধিকাংশ ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে, উঠোনজুড়ে জন্মেছে ঝোপঝাড়, আর সন্ধ্যা নামলেই নির্জন বারান্দাগুলোতে জড়ো হয় মাদকসেবীদের আড্ডা।

২০২৩ সালের ২৩ মার্চ নয়াপাড়া গ্রামের ৮ একর ৯ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হয় মোট ১৪২টি পাকাঘর। প্রকল্প উদ্বোধনের সময় সুবিধাভোগীদের জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তর করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই বহু পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়া ১৪২টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৬৭টিই বর্তমানে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত বসবাস করছেন মাত্র ৭৫টির মতো ঘরে।খালি ঘরগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর সামনে ঝোপঝাড় ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধকারের সুযোগে রাতের বেলা এসব বাড়ির বারান্দায় চলে মাদকসেবীদের আড্ডা—ফলে আশপাশের পরিবারের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।নয়াপাড়ার বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প এলাকায় কাজের সুযোগ ও শিক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবার স্থায়ীভাবে থাকতে আগ্রহী নন। এছাড়া মসজিদের ইমামের বেতন পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, কারণ বেশিরভাগ ঘর খালি থাকায় দায়ভার পড়ছে অল্প কয়েকটি পরিবারের ওপর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনরা বরাদ্দ না পেলেও অনেকের নিজের ঘরবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তারা আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ৩৩ নম্বর ঘরের বরাদ্দধারী কাজল মিয়াকে—তার নিজস্ব বাড়ি ও উল্লেখযোগ্য ভাড়াবাবদ মাসিক আয় থাকার পরও তিনি সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া ১২৬ নম্বর ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত সোহাগ, ২৯ নম্বর ঘরের রিমা আক্তারসহ অনেকেই

উদ্বোধনের পর থেকে ঘরে না থাকায় সেগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। ৩৩, ৩৫, ৩৭, ৩৮, ৮৭ ও ১১৮ নম্বর ঘরেও একই অবস্থা দেখা যায়।নয়াপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল লতিফের স্ত্রী নাজমা আক্তার বলেন, “রাতে তালাবদ্ধ ঘরের বারান্দায় অপরিচিতরা জড়ো হয়। এতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফাঁকা ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের মাঝে পুনর্বণ্টন করা জরুরি।”শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, “অনিয়ম বা প্রভাব খাটিয়ে ঘর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া নয়াপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এখন ‘ঘর আছে, মানুষ নেই’ পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি, বরাদ্দ যাচাই, অনিয়ম তদন্ত এবং খালি ঘরগুলো পুনর্বণ্টন করা হলে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT