1. admin@nagorikchitra.com : admin :
September 27, 2026, 9:41 pm
শিরোনামঃ
সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি, নানা আয়োজনে দৈনিক মাতৃজগতের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি মঘদাই শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিকাজে ফেরাতে বিন্যাটিতে সরকারি সহায়তা নবীনগরে তালীমে হিযবুল্লাহ ও যুব কাফেলার নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত। নবীনগরের লাউর ফতেপুর গুচ্ছগ্রাম,২৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ১১০০ মানুষ, প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এমপির শরণাপন্ন এলাকাবাসী ডিমলায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুইজন আটক আগৈলঝাড়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভা  গোপালগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৯৮ পিস ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁও-১: মনোনয়ন জমা দিলেন ফয়সল

নবীনগরের লাউর ফতেপুর গুচ্ছগ্রাম,২৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ১১০০ মানুষ, প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এমপির শরণাপন্ন এলাকাবাসী

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, September 27, 2026,

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

কবি গুরু বা পল্লিগীতির সেই পঙ্‌ক্তি “আসমানিদের দেখতে যদি তোমরা সবে যাও, রহিম মুদির চুট্র বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয়, পাখির বাসা—ভিন্ন পাতার ছানি; একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি।” কবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতার সেই অসহায় মানুষের জীবন যেন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ১২ নং লাউরফতেপুর ৫ নং ওয়ার্ড ইউনিয়নের একটি গুচ্ছগ্রামে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ১২ নং লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নতুন গুচ্ছগ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার ও প্রায় ১১০০ মানুষ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চরম অবহেলা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নানা সমস্যায় জর্জরিত এই অবহেলিত জনপদের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সরজমিন এ গিয়ে জানা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এই গুচ্ছগ্রামটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি এই জায়গাটিতে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগেনি।

গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য ভালো কোনো রাস্তাঘাট এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নর্দমার দূষিত পানির পাশেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের বসবাস করতে হয়। এর প্রভাবে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভালো কোনো টিউবওয়েল নেই। এছাড়া গ্রামের একমাত্র পুকুরটিতে গোসল করার জন্য কোনো পাকা ঘাটলা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় নারী ও শিশুদের।

গ্রামের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল ভেদ করে অঝোর ধারায় পানি পড়ে পুরো ঘর ভেসে যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি এক সুড়ু দিয়ে যাওয়ার সময় মাটি সরে গিয়ে অনেক ঘর চরম বিপদের মুখে রয়েছে। একটু ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেলেও কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। এছাড়া সরকারের দেওয়া এই ঘরগুলো থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স বা ফি হিসেবে রসিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মে হোল্ডিং স্মার্ট কার্ডের ফি ২০০ টাকা লেখা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি ঘর থেকে জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে। অসহায় এসব মানুষের ওপর এমন জুলুম কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ, পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT