তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি, নরসিংদী
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে চরমধুয়া, নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ি চরাঞ্চলে নদীভাঙন তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন।
গত শনিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হোসেন শিমুলের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযানের খবরে জনশূন্য অনেক বাড়িঘর ও দোকানপাট
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেন। এ সময় অভিযানের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অনেক বাড়িঘর তালাবদ্ধ এবং দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। এলাকায় পুরুষ মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের এ অভিযানকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু এককালীন অভিযান নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নদী ও চরাঞ্চল রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদীভাঙনে হুমকির মুখে কৃষি ও জনজীবন
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে কৃষিজমি, বসতভিটা ও মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্থান হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবিকা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া এলাকায় ভয়ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন।
নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি
চরমধুয়া, নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ি চরাঞ্চলের নদীতীর, ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রায়পুরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর জানান, মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সচেতন মহলের মতে, মেঘনা নদী ও চরাঞ্চলের পরিবেশ, কৃষিজমি এবং জনবসতি রক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা জরুরি। অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে নদীভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।