1. admin@nagorikchitra.com : admin :
March 22, 2026, 10:12 pm
শিরোনামঃ
ঈদুল ফিতর কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার বগুড়ায় মাইক্রো বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা, নিহত ৩, আহত ৯ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে দায়িত্বে থাকবেন মির্জা ফখরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল ইসরায়েল তাসকিন-মিরাজদের কাছে মিরপুরের ড্রেসিংরুম যেন এক টুকরো ঘর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও নেই যানজট আমার কথা বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করবেন : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লারিজানি হত্যা : ‘চূড়ান্ত’ প্রতিশোধের হুমকি ইরানি সেনাপ্রধানের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ রাশেদুল ইসলাম কিরণ ১৫০ পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করলেন মা শান্তি নিবাস এসোসিয়েশন।

অন্যের সঙ্গে সদাচরণ যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, January 29, 2026,

মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, হাসিমুখে কথা বলা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা একটি মানবিক গুণ ও সুস্থ সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য। কোরআনের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য নম্রতা, সৌজন্য, দয়া, সহানুভূতি ও ভালোবাসা নিশ্চিত করা। এর ফল হিসেবে গড়ে ওঠে পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক ঐক্য, মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ।
সদাচরণের প্রথম ও মূল স্তম্ভ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১)

কোরআনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। জাতি, বর্ণ, ধনী-গরিব কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ নেই। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবেশী ও অচেনা মানুষের প্রতি সহানুভূতি মানবিক সমাজের ভিত্তি। ইসলামে হাসিমুখে কথা বলাকেও সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, যাকাত প্রদান করো; আর তোমরা যে কোনো সৎকর্মই করো, আল্লাহ তা জানেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১১০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের মুখে হাসি ফোটানো সদকা।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৬)

প্রতিবেশী, আত্মীয় ও সমাজের প্রতি সদাচরণ ইসলামে শুধু নৈতিক উপদেশ নয়; বরং একটি দায়িত্ব। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, পথিক ও সাহায্যপ্রার্থীদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৭)

নবীজি (সা.) আরও সতর্ক করে বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, যে নিজে পেট ভরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

ন্যায়বিচার ও সততা সদাচরণের মেরুদণ্ড। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বা পিতা-মাতার বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩৫)

সদাচরণ ও সহানুভূতির প্রসার একটি মানবিক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘তোমরা মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল। তিনি বলেছেন, ‘উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।’ (তিরমিজি)
রূঢ়তা, অহংকার ও বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকা ফরজ। শান্তি ও সহানুভূতির পথে অগ্রসর হওয়াই ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকো।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ৬১)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মানুষের কল্যাণ করো, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণ করবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৫)

এ হাদিসই মানুষের সাথে সদাচরণ, হাসিমুখে কথা বলা ও সহানুভূতির সর্বোত্তম রূপরেখা।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT