1. admin@nagorikchitra.com : admin :
August 16, 2026, 7:29 pm
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ, বেড়েছে অনেকগুন, স্বস্তিতে ব্যবহারকারীরা চট্টগ্রামের মীরসরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মাঈন উদ্দিন দোয়া চাইলেন, সদস্য না হয়ে ও কি করার আছে?  সাংবাদিকদের সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার আহ্বান নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের( ০৫) নং ওয়ার্ডের বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সাংগঠনিক পদে আলোচনায় মো. আব্দুর রশিদ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে কোটিপতি! টঙ্গীর কেরানিটেক বস্তির মাদক সম্রাজ্ঞী কুলসুম চার নম্বর ডেকারস লেনের একটি তিনতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ হুড় মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো। ডিজিটাল আসক্তিতে অন্ধকারে শিক্ষা: লাউচাপড়া স্কুলে ৪২ জনের মধ্যে পাস মাত্র ৩, ক্লাসরুম নিশ্চুপ। শ্রীবরদী সীমান্ত বিজিবি অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ। ভোলায় পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সিলেটের গোলাপগঞ্জে ফেসবুকে অস্ত্রের মহড়া, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ, বেড়েছে অনেকগুন, স্বস্তিতে ব্যবহারকারীরা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 16, 2026,

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকেও সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামিট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করা হয়। শুরুতে কম পরিমাণে গ্যাস দেয়া হলেও রাত ও ভোরের দিকে তা দ্রুত বাড়ানো হয়। টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গেলে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ভোরে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। ফলে কয়েক দিন ধরে কমে যাওয়া জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে লোডশেডিং। একই সঙ্গে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও চাপ বেড়েছে। বাসাবাড়িতে কম চাপের কারণে রান্নার কাজেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে অনেককে।

বর্তমানে মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেটের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

তবে দুই টার্মিনালের সমস্যার কারণে সম্প্রতি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে একটি বয়লার মেরামত করে ৬ আগস্ট সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। শুক্রবার কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু সময় সরবরাহ বন্ধ থাকলেও পরে আবার চালু করা হয়েছে।

এক্সিলারেটের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো সচল হয়নি। সেটি চালু করার আগে টার্মিনালের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে। এ সময় প্রায় তিন দিন সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কবে পরীক্ষা শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামিটের ক্ষেত্রেও এলএনজি সংকট তৈরি হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে কম সরবরাহের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছানোর পর নতুন করে সরবরাহ শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়।

ভিটলের জাহাজ থেকে সামিট টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয় শুক্রবার সন্ধ্যায়। এর আগেই টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সরবরাহ কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ থেকেও গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। জাহাজটির সঙ্গে টার্মিনালের এলএনজি স্থানান্তর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় সেটি ফেরত পাঠানো হয়। নতুন করে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে আরামকো।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বরাবরই কম থাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে এলএনজির অংশ প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সংকটে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। পরে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবু চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সামিটের সরবরাহ বাড়ায় আপাতত পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তবে সংকট পুরোপুরি দূর করতে এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার চালু করাসহ আরও কয়েকটি বিষয় সমাধান করতে হবে।

এদিকে গত দুই দিনের বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এতে লোডশেডিংও তুলনামূলক কমেছে। তবে আবহাওয়া গরম হলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে গ্যাসের ওপর চাপও বাড়তে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2025
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT