রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুর এলাকায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এইচডিপিই পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে চার মাস আগে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের বিল তুলে নিলেও প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকরা এখনো তাদের পাওনা পাননি। জমির ওপর দিয়ে পাইপলাইন বসানোর সময় নষ্ট হওয়া ফসল, কাটা পড়া ফলদ গাছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় কৃষকরা প্রতিদিন বিএমডিএ কার্যালয়ে ধরনা দিচ্ছেন, কিন্তু মিলছে না কোনো সুরাহা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্প শুরুর সময় দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের ফসলি জমিতে কাজ করার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে কৃষকরা সহযোগিতা করলেও কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। ভুক্তভোগীরা জানান, ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় বারবার নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে। প্রথমে ব্যাংক হিসাব, এরপর বিকাশ বা নগদ নম্বর এবং সর্বশেষ রাউটিং নম্বর চাওয়ার মাধ্যমে তাদের অহেতুক ঘোরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
ক্ষতিপূরণের তালিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, বিএমডিএ’র উপজেলা প্রকৌশলী আ. লতিফের প্রস্তুত করা তালিকায় ব্যাপক স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকায় এমন অনেক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকের নামই বাদ পড়েছে। এই ভুয়া তালিকার কারণেই মূলত অর্থ ছাড়ের বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বিএমডিএ’র প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থ অনেক আগেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তালিকায় অসংগতি ধরা পড়ায় বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা পরিশোধ করা হবে।
অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানও জানিয়েছেন যে যাচাই-বাছাই শেষ হলেই কৃষকরা তাদের পাওনা পাবেন। দ্রুত এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।